বাংলা ও বাঙালি :

  মুক্তিযুদ্ধের স্মারকচিহ্ন যশোর রোডের শতবর্ষী গাছ কাটতেই হবে?      বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ পেলেন সাত বিশিষ্টজন      ‘সঙ্গীত জাগাচ্ছে প্রাণ’      মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আগলে কোলকাতা      বিজয় দিবসে অসাম্পদায়িক দেশ গড়ার শপথ      জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা      আজ স্বাধীনতার ৪৬তম বিজয় উৎসবের দিন      “ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও আমি বলবো, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা।” – জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান      “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥” – কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর      “বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হলে অসাধ্য সাধন করতে পারে .. “ – শেখ হাসিনা      “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছাড়া, আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আর কোন বিকল্প নেই .. “ – তাজউদ্দীন আহমদ      “মোদের গর্ব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা .. “ – অতুল প্রসাদ সেন      “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি, .. “ – দ্বিজেন্দ্র লাল রায়      “আমরা হিন্দু কিংবা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়েও বেশি সত্য আমরা বাঙালি ….” – ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ      “যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি॥ …” – কবি আব্দুল হাকিম   
bangla font dekha na gele


সর্বশেষ খবর :

  দেশে ফিরে গেলেন প্রণব মুখার্জি      মেয়র আইভী অসুস্থ, ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি      ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ব্রিটেন, ৫ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই      নিউইয়র্কের রাস্তায় অ্যালানের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ঘনিষ্ঠ প্রিয়াঙ্কা      দিল্লির মাদাম তুসোর মিউজিয়ামে সানি!      অক্সফোর্ডে প্রথম ভারতীয় সিনেমা প্যাডম্যান      ”নারীর শরীরের চেয়ে সুন্দর পৃথিবীতে কিছু নেই ”      সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শক্তি প্রদর্শন করবে পিয়ংইয়ং      ফেক নিউজ পুরস্কার ঘোষণা ট্রাম্পের!      কাজাখস্থানে বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৫২      মেলানিয়া কত নম্বর স্ত্রী ট্রাম্পের?      বাজিগর! হারের পরও বর্ষসেরা বিরাটই      সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সব রাজ্যে মুক্ত ‘পদ্মাবত’      তাপমাত্রা মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি! চোখের পাতায় জমছে বরফ !!      গেন্ডারিয়ায় দুই মোটরসাইকেট আরোহী নিহত   

শুক্রবার, ১২ জানুয়ারি ২০১৮

‘ভারতের বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা’





ভারতের সুপ্রিম কোর্টের চার বিচারপতি যে ভাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করলেন, তার নজির দেশটির ইতিহাসে নেই। ভারতের বিচার বিভাগের শীর্ষ মহলে এই অভূতপূর্ব সঙ্কটের তাৎপর্য কী? এ নিয়ে লিখেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী –

অরুণাভ ঘোষ

এত বছর আইন-আদালত নিয়ে রয়েছি, এমন পরিস্থিতি কখনও দেখিনি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সবচেয়ে  সিনিয়র পাঁচ বিচারপতির মধ্যে চারজন একত্রে সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন, দেশের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অস্বচ্ছ কার্যকলাপের অভিযোগ তুললেন। ভারতের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এই ঘটনার নজির আর নেই।

বিচারপতি চেলামেশ্বর, বিচারপতি কুরিয়েন, বিচারপতি গগৈ এবং বিচারপতি লোকুর যা বলেছেন, তা খুব অযৌক্তিক নয়। আমার নিজের উপলব্ধিও এই রকমই। সুপ্রিম কোর্টে ইদানীং যেন সব কিছু ঠিকঠাক চলছে না। ভারতীয় বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পীঠস্থানটার প্রশাসনেই যেন গলদ।

বেশ কিছু মামলার রায় দেখে আশ্চর্য হতে হচ্ছে আজকাল। যাঁরা রায় দিচ্ছেন, তাঁরা যেন মামলার বিষয়বস্তুই ঠিক মতো বুঝতে পারেছেন না। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, যে বিষয়ে মামলা, সেই বিষয়ে জ্ঞানের অভাব রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিদের।

কোনও আইনজ্ঞ বা কোনও বিচারকের পক্ষেই সব রকম আইনের বিশেষজ্ঞ হওয়া সম্ভব নয়। যিনি আইনের যে দিকটা ভাল বোঝেন, তাঁর এজলাসে সেই সংক্রান্ত মামলা যাবে, এমনটাই কাম্য। কিন্তু সে সব বিচার-বিশ্লেষণ যেন আজকাল উঠেই গিয়েছে। ফলে অনেক মামলার রায়ই সন্তোষজনক হচ্ছে না।

বাংলার অধ্যাপককে যদি পদার্থবিদ্যার খাতা পরীক্ষা করতে দেওয়া হয় বা চক্ষু বিশেষজ্ঞকে যদি স্নায়ুর জটিল রোগের চিকিৎসা করতে বলা হয়, তা হলে যেমন বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে, বেশ কিছু মামলার রায়েই তেমন বিপর্যয়ের ছায়া। এই ধারা বজায় থাকলে বিচার বিভাগের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাবে।

বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্ট যে ভাবে চলছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টের উপরে সাধারণ মানুষের আস্থা কমুক বা না কমুক, খোদ বিচারপতিদের আস্থা যে কমেছে, সেটা খুব স্পষ্ট হয়ে গেল। সবচেয়ে প্রবীণ পাঁচ বিচারপতির মধ্যে চার জনই জানালেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সব কিছু ঠিকঠাক চলছে না। এ ভাবে চললে দেশে গণতন্ত্র বাঁচবে না, এমন মন্তব্যও তাঁরা করলেন।

খুব স্পষ্ট করেই চার বিচারপতি জানালেন, প্রধান বিচারপতির উপর তাঁদের আস্থা নেই। এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আস্থা বা ভরসা ধাক্কা তো খাবেই। সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে মানুষের মনে যে শ্রদ্ধা-সম্ভ্রম রয়েছে, তাও কমবে।

আস্থা নেই…। সুপ্রিম কোর্ট যে ভাবে চলছে, তাতে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে, মনে করছেন চার সিনিয়র বিচারপতি। ছবি: রয়টার্স

চার সিনিয়র বিচারপতির যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পরে একাংশের ধারণা হয়েছে যে, এ বার প্রধান বিচারপতি পদ থেকে বিচারপতি দীপক মিশ্রের ইমপিচমেন্ট অর্থাৎ অপসারণ ঘটানো হবে। এই ধারণা কিন্তু ভ্রান্ত। ইমপিচমেন্ট অনেক দীর্ঘ একটা প্রক্রিয়া। আর ইমপিচমেন্টের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।

বিচারপতি চেলামেশ্বরকেও সংবাদ সম্মেলনে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির ইমপিচমেন্ট হবে কি না। তিনি সবিনয়ে জানিয়েছেন, এ প্রশ্নের জবাব তাঁর কাছে নেই, এ সিদ্ধান্ত জাতিকে নিতে হবে। আসলে ইমপিচমেন্টের সিদ্ধান্ত সংসদে হয়, সুপ্রিম কোর্টে বা অন্যত্র নয়।

প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক ভূমিকার প্রতি চার বিচারপতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন ঠিকই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তাঁরা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দুর্নীতির কোনও অভিযোগ সরাসরি তোলেননি। অতএব, ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কোনও সম্ভাবনা এখনই দেখতে পাচ্ছি না।

ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া খুব সহজও নয়। লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাশ করাতে হয় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব। তার পর রাজ্যসভায় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাশ করাতে হয়। রাজ্যসভায় আটকে গেলে, যৌথ অধিবেশন ডেকে ফের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রস্তাব পাশ করাতে হয়।

সংসদে যে পরিমাণ গরিষ্ঠতা এখনকার শাসকদের রয়েছে, তাতে সরকার চাইলে ইমপিচমেন্ট অসম্ভব নয়। তবে সরকার তেমন কিছু ভাবছে বলে মনে হয় না।

দৃশ্যপটটা যে রকম দাঁড়াল, তাতে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং কর্তৃত্বকামী রাজনীতিকদের সুবিধা হল। এ দেশে (ভারতে) রাজনৈতিক স্বৈরাচার বার বারই সবচেয়ে বড় বাধার সম্মুখীন হয় বিচার বিভাগের তরফ থেকে। রাজনীতিকদের বা ক্ষমতাশালীদের দুর্নীতি এবং স্বৈরাচার থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করে আদালতই।

এ বার আদালতের সেই কর্তৃত্ব দুর্বল হবে। শীর্ষ আদালতের সর্বোচ্চ মহলে পারস্পরিক অনাস্থা এবং মতানৈক্যের যে ছবি প্রকট হল, তার সুযোগ এক শ্রেণির রাজনীতিক অবশ্যই নিতে চাইবেন। সেটা দেশের জন্য খুব একটা কল্যাণকর হবে না।

অরুণাভ ঘোষ: বিশিষ্ট আইনজীবী, কলকাতা হাইকোর্ট। সংগ্রহ: আনন্দবাজার পত্রিকা, লেখা প্রকাশের তারিখ: ১২ জানুয়ারি, ২০১৮।

মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব ও ব্যক্তিগত।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Print This Page


এই রকম আরও খবর

ফেক নিউজ পুরস্কার ঘোষণা ট্রাম্পের!

গতকাল ১৭ জানুয়ারি ২০১ বুধবার, এই... বিস্তারিত

ছবি- সোশ্যাল মিডিয়া

কাজাখস্থানে বাসে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৫২

বাঙালিনিউজ, আন্তর্জাতিকডেস্ক:... বিস্তারিত